সংকট শেষে টিকা ব্যবস্থাপনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সংকট কাটার পর কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দোষী ব্যক্তি নির্ধারণের চেয়ে এই মুহূর্তে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হামের প্রাদুর্ভাবে ব্যাপক শিশুমৃত্যু
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে চার শর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন জটিলতায় টিকা কেনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুরা সময়মতো টিকা না পাওয়ায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন দল ও সংগঠন অভিযোগ করছে।
দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
এজন্য দায়ীদের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’–এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন একদল আইনজীবী। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)সহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন এর মধ্যে এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে ও বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে।
শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা নিয়ে কী ভুল করেছে, সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।’ তিনি জানান, দেশে বর্তমানে হামের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশন, আইসিইউ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরাও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর ও ভ্যাকসিন সরবরাহ
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আজ আমেরিকা থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর দান করেছে একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যোক্তা। আমরা সেগুলো আজকে বণ্টন করব।’ তিনি আরও জানান, চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল বা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছেন। পোলিও ও অ্যান্টি র্যাবিস টিকাও দেওয়া শুরু হয়েছে।
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ঘাটতি
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু কম আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পেয়ে যাব। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিব।’
ইপিআই কার্যক্রম অব্যাহত
তিনি আরও বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে এবং নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।



