নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি স্কুল মাঠে পাগলা কুকুরের হামলায় ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসী কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
ঘটনার বিবরণ
শিশুদের স্বজনরা জানান, হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একদল শিশু ব্যাডমিন্টন খেলছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত সোহেল রানা (১০) নামে এক শিশু সেখানে থাকা একটি কুকুরের গায়ের উপর পড়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি তার শরীরে এলোপাতাড়ি কামড় দেয়। পর্যায়ক্রমে তার অন্য পাঁচ সহপাঠীকেও কামড় দিয়ে জখম করে। শিশুদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে পাশের নন্দকুঁজা নদীতে ফেলে দেয়।
আহত শিক্ষার্থীদের পরিচয়
কুকুরের কামড়ে আহত শিশুরা হলো: সোহেল রানা (১০), সাগর (১১), মুহিত (১০), মেহেদী (১২), মুন্নাফ (১০) ও হাদী (১১)। তাদের মধ্যে সোহেলের শরীরে সবচেয়ে বেশি কামড়ের চিহ্ন রয়েছে।
চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন
আহত শিশুরা বুধবার গুরুদাসপুর হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, শিশুদের চোয়াল, হাত ও পায়ে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। তাদের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ভয় বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই; নিয়ম করে ভ্যাকসিন নিলেই তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস বলেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কুকুরের চেয়ে বেড়ালের কামড়ে আক্রান্ত শিশু রোগী ভ্যাকসিন নিতে আসছে বেশি। তিনি সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির বেড়ালগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ওপর জোর দেন।
শিশুদের মানসিক অবস্থা
শিশুদের স্বজনরা জানান, পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত শিশুরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তারা ঠিকমতো খাচ্ছে না এবং মানসিকভাবে বেশ আঘাত পেয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।



