সস, মেয়নেজ বা চিজ দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবার টাটকা অবস্থায়ই খেয়ে নেওয়া ভালো। তাতে খাবারটি যেমন নিরাপদ থাকে, তেমনি স্বাদও থাকে অটুট। তবে ফ্রিজে রেখে যদি পরে গরম করে খেতে হয়, তাহলে তা সময়মতো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। না হলে খাবারে জীবাণু জন্মাতে পারে এবং সেই খাবার খেয়ে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম
সস, মেয়নেজ বা চিজযুক্ত খাবার তৈরি করার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তুলে রাখতে হবে। গরম আবহাওয়ায় জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে, তাই সেক্ষেত্রে এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে তোলা ভালো। তবে গরম অবস্থায় ফ্রিজে ঢোকানো উচিত নয়।
সবার খাওয়ার পর যদি কিছুটা খাবার থেকে যায় এবং এর মধ্যে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, তখন ফ্রিজে তুলে রাখতে গেলে তাতে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি বাড়বে। সারা রাত টেবিলে রেখে দেওয়া খাবার পরদিন গরম করে খাওয়া যাবে না।
পাস্তা ও অন্যান্য খাবার আলাদা রাখা
পাস্তাজাতীয় খাবার, যা বাটি থেকে তোলার সময় নাড়াচাড়া হয়, সেটির কিছু অংশ তুলে রাখতে চাইলে বাকিটা পরিবেশনের আগেই আলাদা করে রাখুন। ফ্রিজে রাখার জন্য ভালো মানের বায়ুরোধী বাক্স ব্যবহার করুন। গরম অবস্থায় প্লাস্টিকের পাত্রে রাখবেন না। প্রতিটি বাক্সে এমন পরিমাণ খাবার রাখুন, যেন তা বের করা হলে তাতে রাখা পুরো খাবারটা একবারেই গরম করে খেয়ে নেওয়া যায়। একই খাবার বারবার গরম করা উচিত নয়।
গরম করার নিয়ম
ফ্রিজে রাখা খাবার গরম করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিটি অংশ ভালোভাবে গরম হয়, অর্থাৎ খাবারের কোনো অংশ ঠান্ডা না থাকে। গরম করার সময় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, কাগজ বা পলিথিনজাতীয় মোড়ক খুলে ফেলতে হবে।
বার্গারজাতীয় খাবারের টমেটো, শসা বা লেটুস পাতার মতো কাঁচা উপাদান আলাদা করে রেখে শুধু বান ও প্যাটি গরম করা ভালো। গরম করতে গেলে কাঁচা খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আলাদা চিজের স্তর থাকলে সেটিও একইভাবে আলাদা করে রাখা যেতে পারে।
সংরক্ষণের সময়সীমা ও সতর্কতা
এসব খাবার ফ্রিজে রাখার পরদিন খেয়ে নেওয়াই ভালো। তৈরির পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা রাখা যাবে। এর বেশি সময় ফ্রিজে রাখবেন না। এই সময়সীমার মধ্যেও কোনো খাবারের ঘ্রাণ, রং বা স্বাদ বদলে গেলে কিংবা পিচ্ছিল ভাব দেখা দিলে ফেলে দিন।
যেসব খাবারে অন্যান্য উপাদানের চেয়ে সস, মেয়নেজ বা চিজের পরিমাণ অনেক বেশি, সেসব ফ্রিজে তুলে পরে গরম করে খাওয়ার চিন্তা না করাই ভালো। স্যান্ডউইচ ফ্রিজে রাখলে ঠান্ডাই খেয়ে নিন।
যদি অনেক বেশি পরিমাণ খাবার থাকে, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া সম্ভব হবে না, তাহলে সেসব খাবারের শুকনা অংশ আলাদা করে নিয়ে একই পদ্ধতিতে ডিপফ্রিজে তুলে রাখা যায়। তবে এ ধরনের খাবারের কাঁচা অংশ কিংবা চিজ দেওয়া কোনো খাবার ডিপফ্রিজে রাখবেন না। সস বা মেয়নেজ দেওয়া নরম খাবার বা ঝোলজাতীয় খাবারও ডিপফ্রিজে রাখবেন না। এসব ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া না হলে আগেভাগেই অন্য কাউকে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
বাইরের বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন
বাইরে থেকে বাসি খাবার কিনে সেদিনই খেয়ে নেওয়া হলেও তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ওই খাবার থেকেই হতে পারে জীবাণুর সংক্রমণ। বাসি খাবার কিনে ফ্রিজে সংরক্ষণ তো দূরের কথা, আদতে তা কেনাই উচিত নয়। বাইরে থেকে এ ধরনের খাবার কিনে আনার সময় যদি পুরোপুরি নিশ্চিত না থাকেন যে এসব ঠিক কবে তৈরি করা হয়েছে, আর সেই খাবার খাওয়া ছাড়া অন্য উপায়ও না থাকে, তাহলে তা খেয়ে ফেলুন ওইদিনই। বাসি খাবার ফ্রিজে তোলার ভুল করা যাবে না কখনোই।



