স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুলের কঠোর অবস্থান: সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি বন্ধ, চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা বাধ্যতামূলক
নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতি চলবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, এই মন্ত্রণালয়ে কারও চাপে কোনো কাজ হবে না এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জনবল সংকট ও চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা
জনবল সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবল ঘাটতি আছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, "ডাক্তারদের সকাল ৯টার অফিসে ১২টায় গেলে চলবে না। আমরা এক মাসের মধ্যে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব।"
তিনি জানান, সাতদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন শুরু করবেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
স্বাস্থ্যখাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। চিকিৎসার মান বাড়াতে পারলে মন্ত্রী-এমপিসহ সাধারণ মানুষের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি ব্যক্তিগত উদাহরণ দিয়ে বলেন, "আমার কিছু হলেই যেন বিদেশ যেতে না হয়, সেই চেষ্টা করব। একেবারে জটিল ও যার চিকিৎসা দেশে নেই এমন পরিস্থিতি ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।"
বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
এ ছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, "আমরা সব দলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব।"
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলো স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
