জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা যখন তীব্রতর হচ্ছে, তখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এজেন্ডায় উঠে এসেছে—এটি একটি স্বাগত জানানোর মতো প্রথম পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত পরীক্ষা হলো কথাকে কাজে রূপান্তরিত করা কিনা।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তারা পিছিয়ে পড়েছেন। সরকারের এখন স্বীকার করা উচিত যে অন্তর্ভুক্তি দান নয়, বরং শাসনের একটি মূল দায়িত্ব। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ নাগরিক প্রতিবন্ধী অবস্থায় বসবাস করছেন, যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
অবকাঠামো ও বৈষম্য
পাবলিক অবকাঠামো অধিকাংশই অ্যাক্সেসযোগ্য নয়, কর্মক্ষেত্রে খুব কমই সুবিধা রয়েছে এবং সামাজিক কলঙ্ক এই বর্জনকে আরও জোরদার করে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদে (ইউএনসিআরপিডি) প্রতিশ্রুতি থাকলেও অগ্রগতি অপ্রতুল।
বাজেটে কী প্রয়োজন
বাজেট বরাদ্দ প্রতীকী অঙ্গীকারের বাইরে যেতে হবে। প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজন অ্যাক্সেসযোগ্য অবকাঠামো, সহায়ক প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে বিনিয়োগ। এর সাথে স্বাস্থ্যসেবা যাতে বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োগ করা জরুরি, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অন্যদের মতো সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
সরকারের দায়িত্ব
সরকারের কর্তব্য পুরো দেশের কল্যাণে কাজ করা। যখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন সমাজ শক্তিশালী হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ক্ষমতায়িত হলে তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখে, সম্প্রদায়কে সমৃদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। তাদের অবহেলা করা কেবল অবিচার নয়, বরং দেশের মানবসম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অন্তর্ভুক্তি ঐচ্ছিক নয়
আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হওয়া উচিত যে সরকার এই দায়িত্ব বোঝে। প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি ঐচ্ছিক নয়; এটি আমাদের মানবতা, শাসন এবং অগ্রগতির মাপকাঠি। বাংলাদেশ যদি লক্ষ লক্ষ নাগরিক অদৃশ্য ও পিছিয়ে থাকে তবে নিজেকে জনগণমুখী দাবি করতে পারে না।



