ঢাকায় মিনি ল্যাব স্থাপন করে অপ্রচলিত মাদক কেটামিন, কুশ ও ইয়াবা তৈরির চক্র ধরা পড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে উত্তরার একটি বাসা থেকে চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তরল কেটামিন উদ্ধার করা হয়, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করে মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
কেটামিন পাউডার তৈরির ল্যাব
গত ২৫ মার্চ উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তরল কেটামিন থেকে পাউডার তৈরির ল্যাবের সন্ধান পায় ডিএনসি। চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছে তরল কেটামিন সরবরাহের অভিযোগে দুই ওষুধ বিক্রেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্র কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কায় মাদক পাঠাত। তারা ডার্ক ওয়েবে অর্ডার নিত এবং লেনদেন করত ক্রিপ্টো কারেন্সিতে।
ইয়াবার কারখানা
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় ডিএনসি। সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, কাঁচামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ল্যাবের মালিক তোহিদুজ্জামান শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আগে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ইয়াবা উৎপাদনে যুক্ত হন। তিনি প্রথমে ৫০০ ইয়াবা সংগ্রহ করে গুঁড়া করে রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন।
কুশের ল্যাব
গত ৭ জানুয়ারি ওয়ারীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রচলিত মাদক 'কুশ' চাষের ল্যাবের সন্ধান পায় ডিএনসি। তৌসিফ হাসান (২২) নামে এক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শিখে এসে এই ল্যাব স্থাপন করেন। তার থাকার কক্ষে কুশ চাষের জন্য ল্যাব তৈরি করা হয়। সেখান থেকে কুশের বীজ, চাষ করা গাছ, সদ্য তোলা কুশ ও চাষের উপকরণ উদ্ধার করা হয়। ছাদে তাপমাত্রানিয়ন্ত্রিত ঘরে অনেকগুলো কুশগাছের টব পাওয়া যায়। তৌসিফের বান্ধবীকে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভেজাল মদের ল্যাব
গত ৭ জানুয়ারি ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির মিনি ল্যাবের সন্ধান পায় ডিএনসি। সেখানে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও ভেজাল মদ তৈরির রাসায়নিক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে শনাক্ত করে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষে ভেজাল মদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণ করা হতো। দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাত করা হতো।
ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধীরা নানাভাবে সক্রিয় হচ্ছে। বৈশ্বিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তারা মাদক পাচারে জড়িত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় মাদকের কয়েকটি ল্যাবের সন্ধান মিলেছে। একটি বিদেশি চক্রকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং এ ধরনের চক্রকে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসি সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।



