রংপুরে হামে শিশু মৃত্যু ১০, টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এক মাসব্যাপী
রংপুরে হামে শিশু মৃত্যু ১০, টিকা কার্যক্রম শুরু

রংপুরে হামে শিশু মৃত্যু ১০ ছাড়াল, টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

রংপুর অঞ্চলে হামে আক্রান্ত শিশু সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত আরও এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১০ শিশু।

টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে

এদিকে সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে রংপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে হামের টিকা দেওয়া কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবী ডন রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

প্রশাসক জানান, আগামীকাল থেকে এক মাসব্যাপী হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। ৬ মাস বয়সী শিশু থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ২৮০টি টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থা

অন্যদিকে হামে আক্রান্ত ২০ শিশু রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুর শরীরে র‌্যাশ বের না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় না। এতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া আর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুরা হামে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অবস্থান করায় তারাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে বেড সংকটের কারণে এক বেডে ২/৩ জন করে শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরেজমিনে রবিবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ বেডের ওয়ার্ডে ২০ জন হামে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বজনদের অভিযোগ ও চিকিৎসকের বক্তব্য

লালমনিরহাট থেকে আসা তাসমিয়া নামে ৯ মাস বয়সী শিশুর মা আফরোজা বেগম বলেন, ৯ দিন ধরে শিশু ওয়ার্ডে মেয়েকে নিয়ে অবস্থান করছি। তার শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ হামের লক্ষণ দেখা গেলেও ডাক্তাররা বলছেন, শরীর থেকে র‌্যাশ বের না হলে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া যাবে না। অথচ দুই দিন আগে তার শরীরে র‌্যাশ বের হয়ে সারা শরীর ভরে গেছে। শেষ পর্যন্ত তারা ভর্তি নিলো। হামের চিকিৎসা প্রথম থেকে নিলে এত সমস্যা হতো না।

একই অভিযোগ রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকার মোসলেমা বেগমের। তিনি অভিযোগ করেন, তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি এক বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে। শিশু ওয়ার্ডে আগে থেকে হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকলে আলাদাভাবে চিকিৎসা করানো গেলে হয়তো হামে আক্রান্ত হতো না। হাম যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ সে কারণে কর্তৃপক্ষের আগাম সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ডিউক চৌধুরী বলেন, হামে আক্রান্ত হয়েছে শনাক্ত হওয়া এমন রোগী ৮৩ জন ভর্তি ছিল। এর মধ্যে ২০ জন এখনও চিকিৎসাধীন আছে।