রুবেলা রোগের লক্ষণ, সংক্রমণ ও প্রতিরোধ: গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
রুবেলা রোগের লক্ষণ, সংক্রমণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা

রুবেলা: একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগের বিস্তারিত পরিচয়

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে রুবেলা নামক আরেকটি সংক্রামক রোগের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রুবেলা, যা জার্মান মিসেলস নামেও পরিচিত, এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে প্রকৃতির একটি রোগ। এই রোগটির কিছু সাধারণ ও মারাত্মক লক্ষণ রয়েছে, যা শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

রুবেলার সংক্রমণ পদ্ধতি ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী

রুবেলা রোগটি প্রধানত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচি বা গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে গর্ভফুলের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তির সর্দি-কাশি, রক্ত বা মলমূত্রে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। র্যাশ দেখা দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত জীবাণু সর্দি বা থুতুতে সক্রিয় থাকে। টিকা না দেওয়া থাকলে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়, এবং ঘিঞ্জি পরিবেশ বা স্কুলে রোগটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। তবে একবার আক্রান্ত হলে সারা জীবনের জন্য রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

রোগের সংক্রমণ ঘটার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। হামের তুলনায় রুবেলার প্রাথমিক উপসর্গগুলো মৃদু হয়ে থাকে। সর্দি-কাশি বা জ্বর না থাকলেও সরাসরি গ্রন্থির ফোলা ও ব্যথা হতে পারে, যা র্যাশ তৈরি হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • র্যাশ, যা মুখ, পেট, পিঠ ও সারা শরীরে একই দিনে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিন দিনের মধ্যে মিলিয়ে যায়
  • গলার পাশে ও কানের লতির পেছনের গ্রন্থি ফোলা-ব্যথা
  • বয়স্ক শিশুদের মধ্যে পেটের সমস্যা ও রক্তপাতের মতো মারাত্মক লক্ষণ
  • সামান্য চুলকানি

রোজিওলা ইনফ্যান্টাম বা ওষুধজনিত প্রতিক্রিয়া থেকে রুবেলার র্যাশকে আলাদা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ

রুবেলার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা উচিত:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত খাদ্য-পুষ্টিমান বজায় রাখা
  2. ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
  3. ১৫ মাস বয়স থেকে রুবেলা টিকাদান শুরু করা, যা প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর
  4. গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের টিকা দেওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে গর্ভধারণ এড়িয়ে চলা, কারণ গর্ভকালীন এই টিকাদান নিষিদ্ধ
  5. শিশুর ১৫ মাস বয়স থেকে মিজেলস, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিষেধক বা এমএমআর টিকা প্রদান

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রুবেলার সংক্রমণ ঘটলে গর্ভস্থ সন্তানের জন্মত্রুটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, তাই গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল