গোপালগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু ভর্তি বাড়ছে
গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। এই ভর্তিগুলো বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঘটেছে।
চিকিৎসাধীন শিশুদের বর্তমান অবস্থা
শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৯ শিশু সন্দেহভাজন হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন ওয়ার্ডে এবং একজন কেবিনে চিকিৎসা পাচ্ছেন। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. জিবিতেশ বিশ্বাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আটটি নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে ৬ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমিত সব শিশুই বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং হামের লক্ষণে হাসপাতালে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগী ভর্তি
এদিকে, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একটি ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৪ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমরা রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।"
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও সতর্কতা
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় তারা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন:
- আইসোলেশন ওয়ার্ডের ক্ষমতা বাড়ানো
- নমুনা পরীক্ষার গতি ত্বরান্বিত করা
- স্থানীয় জনগণকে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো
- জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লাল দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



