হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: টিকা ও ভিটামিন 'এ' ঘাটতিতে শিশু মৃত্যু, বিশেষ কর্মসূচি শুরু
হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যু: টিকা ঘাটতি ও বিশেষ কর্মসূচি

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যু: টিকা ঘাটতি ও বিশেষ কর্মসূচির সূচনা

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে, যার ফলে সারা দেশে সাড়ে আট হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং দুঃখজনকভাবে ১১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৯৯ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুসারে, গত দেড় দশকে বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিল নগণ্য, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

টিকা কার্যক্রমের গাফিলতি ও সরকারি অবহেলা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, বেশ কিছুদিন ধরে টিকা কার্যক্রমের গাফিলতির ভয়াবহ পরিণাম হিসেবে হামের এই প্রকট প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা কেনা নিয়ে অহেতুক জটিলতা তৈরি হয়, যা শিশুদের টিকা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। সঠিক সময়ে টিকা মজুত না করায় অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত আরও আগে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে হাম ও রুবেলার শেষ কার্যক্রমটি চলেছিল, কিন্তু এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিগত দুই সরকারের অবহেলাকেই এই মারাত্মক প্রকোপের পেছনে দায়ী করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিটামিন 'এ' ঘাটতি ও অপুষ্টির ভূমিকা

চিকিৎসকেরা বলছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের বড় অংশের বয়স ৯ মাসের কম, যাদের টিকা দেওয়া হয় না। তবে, ভিটামিন 'এ'র ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ছয় মাস পর পর ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হলে হামের আশঙ্কা কমে, কিন্তু ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে শিশুরা নিয়মিত এই টিকা পাচ্ছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের জুনের পর তারা ভিটামিন 'এ' পেয়েছে ২০২৫ সালের মার্চে, অর্থাৎ ছয় মাসের বদলে ৯ মাস পর, এবং এরপর আবার প্রায় ১৩ মাস বঞ্চিত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শিথিল হওয়ায় শিশুরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অপুষ্টি ও আঞ্চলিক বৈষম্য

হামের কারণে মৃত্যু হওয়া ১৭টি শিশুর মধ্যে ৫ জনই বরিশাল বিভাগের, যা অপুষ্টির উচ্চ মাত্রার সাথে সম্পর্কিত। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে অপুষ্টির মাত্রা দেশের গড় অপুষ্টির তুলনায় অনেক বেশি, যা হামের ভয়াবহতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এই সংকট মোকাবিলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদরা জোর দিচ্ছেন যে, টিকা কার্যক্রম পরিচালনায় অপুষ্ট অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এখন খুবই জরুরি। অতীতে বাংলাদেশ টিকা কার্যক্রমে সফলতা দেখালেও, সাম্প্রতিক অবহেলা এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত একটি জরুরি জাগরণী বার্তা নিয়ে দেশের সামগ্রিক পুষ্টি-পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো যায়।