শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা: অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার নির্দেশ
অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর হাম-রুবেলা টিকা

অসুস্থ শিশুদের সুস্থ হওয়ার পর হাম-রুবেলা টিকা দেওয়ার নির্দেশনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভোগা শিশুদের আপাতত হাম-রুবেলা টিকা না দিয়ে তাদের সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা প্রদান করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচির সূচনা

রোববার থেকে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা প্রদান করা হবে। মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

টিকাদান প্রক্রিয়া ও তদারকি ব্যবস্থা

প্রথম ধাপে নির্বাচিত উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং পাঁচটি স্থানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে তদারকি করবেন। অন্যান্য স্থানে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা এই টিকাদান প্রক্রিয়া তদারকি করবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম চলবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই বয়সসীমার সব শিশুকেই টিকার আওতায় আনা হবে—তারা আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি জ্বরগ্রস্ত বা আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না।

পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ ও নিয়মিতকরণ

পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠবে বলে জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এস.এম জিয়াউদ্দিন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।