রংপুর বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব: শিশুদের মৃত্যু ও হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে
রংপুর বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগজুড়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দেড়শ’ ছাড়িয়েছে, এবং বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে দশ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালে বেড সংকট ও চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য শিশু ওয়ার্ডের পাশে একটি ছোট কক্ষে মাত্র ছয়টি বেডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে, এমনকি একজন শিশুকে মেঝেতে আর তিন শিশুকে বাইরে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে, যেখানে একটি বেডে দুই থেকে তিন জন শিশুকে রাখতে হচ্ছে।
আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা ও অভিভাবকদের বক্তব্য
নীলফামারীর জলঢাকা থেকে নয় মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা আজমেরী বেগম জানান, একটি বেডে দুই শিশুকে একসঙ্গে রাখতে হচ্ছে, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মাসুমা বেগমসহ অনেকে একই অভিযোগ করেছেন, এবং নতুন করে একটি আইসলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের মতামত ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. খালিদ জানান, গত দুই বছর ধরে নিয়মিত হাম টিকাদান না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই পাঁচ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বয়সী শিশু। রংপুরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, এ পর্যন্ত পনেরো জন শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে সাত জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুদের জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিভাগের আট জেলায় দ্রুত বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।



