চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক হাম কর্নার চালু
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে সম্প্রতি একটি পৃথক হাম কর্নার খোলা হয়েছে। এই কর্নারে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি শিশুদের বিশেষ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যজন চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জেলায় হামের পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ২৮ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি আছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাম শনাক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি, যিনি বোয়ালখালী উপজেলা থেকে এসেছেন। পাঁচ মাস বয়সী অপর শিশুর বাড়ি হাটহাজারী, যিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালগুলোর অবস্থা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে গত এক সপ্তাহে ১৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের শরীরে হাম আগেই শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১৭ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ৯ জন এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একজন শিশু ভর্তি রয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ জন তিনটি হাসপাতালে ভর্তি এবং বাকি ১২ জনকে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
হামের প্রকোপ ও কারণ
দাতা সংস্থাগুলোর সূত্রমতে, এ বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয় এবং ১০ জানুয়ারি সতর্কতা জারি করা হয়। বাংলাদেশ হামমুক্ত দেশ না হলেও টিকা কর্মসূচির কারণে এর প্রকোপ কমে এসেছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পাচ্ছে না এবং দেশে বেশ কয়েক বছর ধরে হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে, চলতি মাসে দেশে হামে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসা ও সতর্কতা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা জানান, হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি অধিকাংশ শিশুর বয়স ১৫ মাসের নিচে। তাদের মধ্যে র্যাশ, জ্বর ও নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। শিশু ওয়ার্ডে আলাদা হাম কর্নারে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।



