রাজশাহীতে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সংকট, আইসিইউতে স্থানাভাবে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে
রাজশাহীতে হামে শিশু মৃত্যু, আইসিইউ সংকটে চিকিৎসা বিপর্যয়

রাজশাহীতে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সংকট, আইসিইউতে স্থানাভাবে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। সংক্রামক এই রোগের রোগীদের আলাদা না রাখায় অন্যান্য শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের হামের লক্ষণ ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইসিইউতে শয্যা সংকট ও মৃত্যুর মিছিল

চলতি মার্চ মাসে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৮৪ জন শিশুকে সাধারণ ওয়ার্ড থেকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি শয্যা থাকায় এই স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও নয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার চার শিশুর জন্য আইসিইউ সুপারিশ করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে হুমায়রা বেগম ও ফারহানা বেগম গতকাল সকালে মারা গেছেন।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা

হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হামের লক্ষণযুক্ত শিশুদের অসুস্থ অন্য শিশুদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে, যা সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ নীতির লঙ্ঘন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মীরা হাসপাতালের নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জনকে হামে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর বিশ্বাস দাবি করেন, হামের রোগীদের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের করুণ দৃশ্য

জান্নাতুল মাওয়ার নানি ফরিদা বেগম হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটা খুব সিরিয়াস। আপনার হাত-পা ধরি স্যার, আমার বাচ্চাটাকে আইসিইউতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।’ তার সিরিয়াল নম্বর ২৯, অর্থাৎ তার আগে আরও ২৮ জন রোগী অপেক্ষা করছেন। হিয়ার বাবা রিফাতও একই সংকটের কথা জানান, তার মেয়ের আইসিইউ সিরিয়াল নম্বর ৩২ হলেও এখনো ডাক পড়েনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান শাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে অক্সিজেনপ্রবাহ কম থাকায় রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডে আলাদা রাখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঈদের আগে ২০০ শয্যার জায়গায় ৭০০-এর বেশি রোগী ভর্তি ছিল, যা সংকটকে তীব্র করেছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যান্য হাসপাতালেও একই চিত্র

রাজশাহীর বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার ভর্তি হওয়া ২৮ শিশুর মধ্যে ২০ জনের হামের লক্ষণ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের পরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা না করে রোগীদের আলাদা করা সম্ভব নয় বলে এক জায়গায় রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জনের প্রতিক্রিয়া

রাজশাহী সিভিল সার্জন এফ আই এম রাজিউল করিম জানান, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় হামের রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। জেলার সব হাসপাতালকে হামের রোগী রিপোর্ট করতে এবং আলাদা চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবায়নে ঘাটতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।