গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫১ আক্রান্ত, ২০ মৃত্যু
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে মঙ্গলবার পর্যন্ত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও ২০ জন।
সরকার জানিয়েছে, টশোপো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানিতে আরও দুইজনের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ পাওয়া গেলেও পরীক্ষার ফল যাচাই চলায় তাদের এখনো নিশ্চিত আক্রান্তের তালিকায় যুক্ত করা হয়নি। ফল নিশ্চিত হলে তাদেরও সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার
এই দুইজনের একজনের সংক্রমণের উৎস ইতুরি প্রদেশের নিয়া-নিয়া গ্রাম, যেখানে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয়েছিল। তবে অন্য আক্রান্তের ক্ষেত্রে কিসাঙ্গানি ছাড়া অন্য কোনো এলাকার সঙ্গে সংক্রমণের সরাসরি যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আগেই ভাইরাসটি মংগবওয়ালু, রওয়ামপারা ও বুনিয়া অঞ্চলের খনিশহরগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে অজান্তেই ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে এটি পাশের প্রদেশগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্বের প্রতিবাদে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। গত সপ্তাহান্তে তারা জাতীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওনা পরিশোধ না করা হলে তারা ধর্মঘটে যাবেন। মঙ্গলবারের মধ্যে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ বন্ধ করে দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়নি।
স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে তারা নিয়মিত বেতন ও অতিরিক্ত ভাতা পাননি। পাশাপাশি তারা পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করছেন এবং কর্তৃপক্ষ ও রোগ মোকাবিলা দলের কাছ থেকে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন।
ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার মহামারি নজরদারি কমিটির সদস্য চিকিৎসক ডা. বিয়েনসি কানো বলেন, ‘ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকেই আমরা আমাদের কাজের পারিশ্রমিক দাবি করে আসছি।’
পরীক্ষামূলক চিকিৎসা শুরু
এমন পরিস্থিতিতে ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ ধরন মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা কার্যক্রমে রোগী নিবন্ধনও শুরু হয়েছে। এই ধরনটি তুলনামূলকভাবে কম প্রাণঘাতী হলেও এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা নেই।



