দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুতে ঢাকা শীর্ষে
হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যু বৃদ্ধি, ঢাকায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দীর্ঘ করছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা এই রোগে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হাম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়, ফলে অন্যান্য রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

হামের জটিলতা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

হাম নিউমোনিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত ও স্নায়ুবিক জটিলতা, ডায়রিয়া, বধিরতা, অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কে ফোলা (এনসেফালাইটিস)-এর মতো গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ হাজার ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে। এ রোগে এখন পর্যন্ত ১৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতটি নতুন মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্ত

মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে, সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৭১ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ঢাকায় ৬১৫ জন সর্বোচ্চ। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮২ জন, ঢাকায় ৮৬ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে ভর্তি হয়েছে ৭২৯ জন এবং ছাড়া পেয়েছে ৭১৩ জন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ ও ভিটামিন এ-এর গুরুত্ব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ করে যে, হাম আক্রান্ত সব শিশুকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভিটামিন এ-এর দুটি ডোজ দেওয়া উচিত। ভিটামিন এ চোখের ক্ষতি, দৃষ্টিহীনতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সি শিশু এবং অপুষ্টিপ্রবণ এলাকায় ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামের উপসর্গ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা নাক, গলা ও ফুসফুস সংক্রমিত করে এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং সারা শরীরে ফুসকুড়ি বের হওয়া। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, "ছয় মাসের নিচের বাচ্চারাই বেশি সংক্রমিত হচ্ছে, যা অদ্ভুত ও আতঙ্কজনক। হামের হার্ড ইমিউনিটি কমে যাওয়ায় এটি দ্রুত ছড়াচ্ছে।"

মৃত্যুর করুণ গল্প ও স্বাস্থ্য সেবার চ্যালেঞ্জ

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে ১৩ মাস বয়সি আবদুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। তার মা ইতিমনি জানান, "আইসিইউতে বেড না পাওয়ায় চিকিত্সা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।" অন্য একটি ঘটনায়, জাবের নামের শিশুর বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটি বাঁচানো যায়নি।" স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, "হামের রোগী মারা গেলেও আমাদের সক্ষমতা আছে, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ওয়ার্ড চালু করা হবে।"

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকা দেওয়ার পর কম করে এক মাস পর শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়, যা এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।