মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ট্রেনে কাটা পড়ে স্বপন কুমারের মৃত্যু
রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়, যা স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত ব্যক্তির নাম স্বপন কুমার সরকার, যিনি বয়সে ৫৫ বছর ছিলেন। তাঁর স্থায়ী নিবাস বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার উত্তর বাশকাটা গ্রামে। স্বপন কুমার পেশায় একজন ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন, যার মূল দায়িত্ব ছিল বিদেশে কর্মী প্রেরণের ব্যবস্থা করা।
ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার সকালে জানান, বুধবার রাতে স্বপন কুমার মুঠোফোন কানে ধরে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। এই সময়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন এসে তাঁকে কাটা পড়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিবার ও কাজের প্রেক্ষাপট
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিনের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বপন কুমার সপরিবার বগুড়ায় বসবাস করতেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত ঢাকায় আসতেন, এবং গত বুধবারও তিনি চুক্তিবদ্ধ ট্রাভেল এজেন্সির দায়িত্ব পালনের জন্য রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন।
অতীতের অনুরূপ ঘটনা
রেললাইনে অসতর্কতার কারণে প্রাণহানির এই ঘটনাটি প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের ৩ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীতে এক যুবক ইমরান মণ্ডল (২৮) কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত হন। এই ঘটনাগুলো রেল ক্রসিংয়ে সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
দুর্ঘটনাটি রেলপথে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে, বিশেষ করে মুঠোফোন ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।



