ইসলামী আন্দোলনের আহ্বান: হাম ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে
হাম ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

হাম ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

দেশে শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে আরও দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই দাবি উত্থাপন করেন।

হামে শিশু মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ

চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ‘সারা দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী শুধুমাত্র রাজশাহীতেই অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ নতুন করে শিশুদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ানো রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের ব্যর্থতারই লক্ষণ।’

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব রোধে টিকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে হাম যেভাবে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারকে তিনি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিন। আর কোনো শিশুর মৃত্যু আমরা দেখতে চাই না।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানিসংকটে জেলেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরা

জ্বালানিসংকট সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনলে মনে হতে পারে জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং জ্বালানির অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানিসংকটের কারণে নদীতে যেতে না পারায় খুলনা, বরগুনা, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার জেলে পরিবার পথে বসতে চলেছে। ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। কিন্তু এই সংকট যখন মানুষের রুটি–রুজির ওপর সরাসরি আঘাত করে, তখন সরকারের উচিত ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশেষ করে উপকূলের জেলেদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে বলে দাবি করা হয়েছে। সামনেই নিষেধাজ্ঞার মৌসুম চলে আসছে। এই সময়ে নদীতে বা সাগরে যেতে না পারলে তাঁদের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হবে বলে ইসলামী আন্দোলন সতর্ক করে দিয়েছে।

সরকারের প্রতি জোরালো দাবি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই বিবৃতি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। দলটি হাম ও জ্বালানিসংকট—দুই ইস্যুতেই সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে। শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জেলেদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ইসলামী আন্দোলন এই সংকটগুলোকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই আহ্বান সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।