রাজবাড়ীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। নিহত মাহাথির মোহাম্মদ (১৭) বালিয়াকান্দি বহরপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল আনতে যাওয়ার পথে ছিটকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে মাহাথির মোটরসাইকেল নিয়ে বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের হুলাইল গ্রামের গাইজাগাড়া সেতুর কাছে পৌঁছালে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি মারাত্মকভাবে মাথায় আঘাত পান। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাচ্চু মোল্লা জানান, সন্ধ্যার আগমুহূর্তে মাহাথিরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাতের কারণেই মৃত্যু ঘটেছে।
পরিবারের শোক ও প্রতিক্রিয়া
নিহত মাহাথির বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের উত্তর পাড়া গ্রামের আবদুল বারেকের একমাত্র ছেলে। তার দুলাভাই নাজমুল শেখ জানান, ঈদের পর ছুটিতে মাহাথির নিজ বাড়ি বালিয়াকান্দির ইলিশকোল গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। দুই দিন আগে তিনি নাজমুলের বাড়িতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য বায়না ধরেন এবং এর পর থেকে তার কাছেই যানটি ছিল।
নাজমুল শেখ বলেন, "মঙ্গলবার বিকেলে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ছুটে যাই। তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় মাহাথির মোটরসাইকেল নিয়ে সদর উপজেলার একটি পাম্পে যাচ্ছিলেন।" তিনি আরও যোগ করেন, পরিবারের সবাই ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন এবং তারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে লাশের জন্য অপেক্ষা করছেন।
পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, পুলিশ সদর হাসপাতালে অবস্থান করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং জনগণকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য গভীর শোকের এই মুহূর্তে সহমর্মিতা প্রকাশ করা হচ্ছে।



