পটুয়াখালীতে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: শিশুসহ ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষাধীন
পটুয়াখালীতে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, ৩১ নমুনা পরীক্ষাধীন

পটুয়াখালীতে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত

পটুয়াখালী জেলায় সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)-এর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে ৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ পর্যন্ত এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও রয়েছেন, যারা হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

হাসপাতালে শয্যা সংকট ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

সোমবার (৩০ মার্চ) পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। জায়গার স্বল্পতার কারণে তাদের শিশু ওয়ার্ডের বাইরে বিকল্প ওয়ার্ডে আলাদা করে (আইসোলেশনে) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১৫ জন রোগী হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বর্তমানে কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে অধিকাংশ আক্রান্তই শিশু। রোগীদের স্বজনরা জানান, প্রথমে জ্বর, এরপর শরীরে লালচে দাগ এবং অনেক ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদ শামীম বলেন, হাম সাধারণত মৌসুমি রোগ হলেও এবার আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেশি। সীমিত শয্যা নিয়ে এত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, তবুও যথাসাধ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া জানান, পরীক্ষার জন্য পাঠানো ৩১টি নমুনার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪টির রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২টি পজিটিভ। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে, স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।