হাম শুধু শিশুদের রোগ নয়, বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে: চিকিৎসকদের সতর্কতা
হাম শুধু শিশুদের রোগ নয়, বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে

হাম সংক্রমণ: শুধু শিশু নয়, বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে

দেশে হাম সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, এবং এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগছে—হাম কি কেবল শিশুদের রোগ, নাকি বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, হামকে শুধুমাত্র শিশুদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা একটি ভুল ধারণা; এটি যে কোনও বয়সের মানুষকেই আক্রান্ত করতে পারে, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাম কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাস খুব সহজেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা স্বাস্থ্যবিধি না মানার ক্ষেত্রে।

শুধু শিশুদের রোগ নয়: বড়দের ঝুঁকি

হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম এবং অনেক সময় টিকা অসম্পূর্ণ থাকে। তবে, বড়দের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি কম নয়। বিশেষ করে যারা শৈশবে হামের টিকা নেননি বা পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেননি, তারা সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বড়দের মধ্যে হাম সংক্রমণ বাড়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • শৈশবে টিকা না নেওয়া বা এক ডোজে সীমাবদ্ধ থাকা
  • সময়ের সঙ্গে টিকার সুরক্ষা কমে যাওয়া (কিছু ক্ষেত্রে)
  • সংক্রমিত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা

লক্ষণ এবং জটিলতা

শিশু ও বড়—দুই ক্ষেত্রেই হামের লক্ষণ প্রায় একই রকম, যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া, এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। তবে, বড়দের ক্ষেত্রে অনেক সময় এই উপসর্গগুলো বেশি তীব্র হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও বিপজ্জনক। হামকে হালকা রোগ মনে করা হলেও এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে, যেমন নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে সংক্রমণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, বড়দের মধ্যে এই জটিলতাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

প্রতিরোধের উপায় এবং বিশেষ সতর্কতা

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। এমএমআর বা এমআর টিকার দুই ডোজ নেওয়া থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়াও, নিম্নলিখিত অভ্যাসগুলো সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  1. আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলা
  2. কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার মেনে চলা
  3. নিয়মিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা

কিছু গোষ্ঠীর জন্য হাম বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যেমন গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তি, এবং যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল। এই ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সর্বোপরি, হাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। চিকিৎসকরা জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই রোগের বিস্তার রোধ করা যায় এবং সকল বয়সের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।