মহানন্দায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে প্রাণ গেল মেধাবী ছাত্রের, বাবা কান্নায় ভেঙে পড়লেন
মহানন্দায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা গেল মেধাবী ছাত্র

মহানন্দা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে মেধাবী ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

মহানন্দা নদীর তীরে বসে ছেলে হারানোর বেদনা প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষিবিদ রোকন উজ্জামান। বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দ্বারিয়াপুরে নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি এই মর্মস্পর্শী ঘটনার বর্ণনা দেন।

ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে দুর্ঘটনা

রোকন উজ্জামান জানান, ঈদের ছুটিতে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে এসে তিনি ও তার বড় ছেলে মাহিনুজ্জামান (১৭) বাড়ির কাজ করছিলেন। কাজ শেষে বাড়ির সামনেই মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে তিনি প্রস্তাব দেন, “চলো বাপ-বেটা মিলে নদীর ওপার থেকে সাঁতার দিয়ে আসি।” এই বলে গোসল করতে নেমে সাঁতার দিয়ে মাঝনদীতে গিয়ে ছেলে বলল, “বাবা, আর পারছি না। পায়ে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গেছে।”

তাকে তলিয়ে যেতে দেখে রোকন উজ্জামান একাধিকবার ডুব দিয়ে ওপরের দিকে ধাক্কা দিতে থাকলেন। একপর্যায়ে ধাক্কা দিতে তার দম ফুরিয়ে গেল এবং তিনি নিজেও ডুবতে বসলেন। নদীপাড়ের এক মাঝি এসে তাকে উদ্ধার করলেন, কিন্তু ততক্ষণে মাহিনুজ্জামান পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবা হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে না পারার যন্ত্রণা

রোকন উজ্জামান বলেন, “আমি বাবা হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই সবকিছু শেষ। আর নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে আমার ছোট ছেলেটা এই দৃশ্য দেখছিল, আহাজারি করছিল। আমি নিজে মারা গিয়ে যদি ছেলেটা বাঁচত, সেটাই ভালো হতো।”

মঙ্গলবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে মাহিনুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করে।

মেধাবী ও ক্রীড়াবিদ ছাত্রের অকালপ্রয়াণ

মাহিনুজ্জামান রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে শুধু মেধাবীই নয়, একজন ভালো অ্যাথলেটও ছিল। বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পুরস্কার জিতেছে সে এবং তার পুরস্কার–মেডেলে বাড়ির আলমারি ভরা। সে সাঁতারও জানত বলে জানিয়েছেন পরিবার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নদীর যে স্থানটিতে মাহিনুজ্জামান ডুবে মারা যায়, ঠিক এর সামনেই পাড়ে বসে বাবা রোকন উজ্জামান এসব বলছিলেন। এ সময় ছোট ছেলে রামিমুজ্জামান, যিনি একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, মাথা নিচু করে নীরবে চোখের পানি ফেলছিলেন।

ছোট ভাইয়ের উপর পড়েছে গভীর প্রভাব

রোকন উজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, “দুই ভাই চলত ঠিক বন্ধুর মতো। একসঙ্গে স্কুলে যেত–আসত। খেলতেও যেত একসঙ্গে। সে বড় একা হয়ে গেল। বড় ভাইয়ের অভাব সে সারা জীবন বয়ে বেড়াবে।”

নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামের মানুষেরা জানান, মাহিনুজ্জামান খুব মেধাবী ও ভালো ছেলে ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা গ্রামের মানুষ শোকাহত। মঙ্গলবার রাতে তার জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০-২৫ জন বন্ধু এসেছিল, যা তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

এই ঘটনা নদীতে সাঁতার কাটার সময় সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি গভীর শোকের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।