বিএনপি নেতার চিকিৎসায় অর্থাভাবে স্ত্রী সন্তান বিক্রির হুমকি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্য কামনা
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রেজেকপুর গ্রামে এক মর্মস্পর্শী ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিএনপি নেতা আত্তাব গাজী দুরারোগ্য লিভার টিউমার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। এই সংকটে তার স্ত্রী শাহিদা খাতুন স্বামীর চিকিৎসার জন্য নিজের সন্তান বিক্রি করতে চান বলে জানিয়েছেন। পরিবারটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ ও সাহায্য কামনা করছে।
রাজনৈতিক নির্যাতন ও অর্থনৈতিক সংকট
আত্তাব গাজী দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং সরকার পতনের আন্দোলনে সামনের কাতারে থেকে কাজ করেছেন। তার পরিবারের দাবি, এ কারণে তিনি অসংখ্য গায়েবি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে, এবং পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারা একাধিকবার জেল হাজতে থাকতে হয়েছে।
স্থানীয় দলীয় নেতাদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় পরিবারটি এখন মানবিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। শাহিদা খাতুন বলেন, "রাজনীতি করতে গিয়ে সব কিছু শেষ হয়েছে। স্বামীর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে নিজের সন্তান বিক্রি করতেও রাজি আছি। তবে মানুষের সাহায্য সহযোগিতা পেলে ভালো হয়।"
পরিবারের করুণ অবস্থা
সরেজমিনে দেখা গেছে, আত্তাব গাজী তার স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান নিয়ে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার কন্যারা হলেন:
- মালা (১৪), সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী
- শারমিন (১১), পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী
- খাদিজা (৩)
- আয়শা (২)
পিতার কান্না দেখে সন্তান ও স্ত্রী সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আত্তাব গাজী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, "আমি ম্যাডামের কবর জিয়ারত ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই।" তার এই আকুতি পরিবারের মর্মবেদনা আরও গভীর করে তুলেছে।
চিকিৎসা সংকট ও ভবিষ্যৎ
আত্তাব গাজীর লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, এবং অর্থাভাবে তিনি বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন বলে পরিবারটি জানায়। স্থানীয় দলীয় নেতাদের কাছ থেকে কোন খোঁজখবর না নেওয়ায় তারা এখন সরকারি সহায়তা ও সাধারণ মানুষের দানের উপর আশা রাখছেন। এই ঘটনা সমাজে রাজনৈতিক সহিংসতা ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
পরিবারটি জোর দিয়ে বলছে, যদি দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা না মেলে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। শাহিদা খাতুনের সন্তান বিক্রির হুমকি একটি চরম মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সমাধানের জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।



