বগুড়ার শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত, দেড় বছরের শিশু অলৌকিকভাবে বেঁচে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দেড় বছরের একটি শিশু, যিনি গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রস্তুতি চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সমবেদনা
এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি গুরুতর আহত দেড় বছরের শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার জেলা প্রশাসক এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও উল্লেখ করেন, শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পরিচালকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন এবং শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয়ভারও প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাস ১২ জন যাত্রী নিয়ে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলে একজন মারা যান। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আহত শিশুটির বাবা-মাসহ আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, নিহতদের লাশ রংপুরের কাউনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানেই তাদের দাফন করা হবে। নিহতরা ঢাকা থেকে পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে একই গাড়িতে করে গ্রামের বাড়ি রংপুরের কাউনিয়ায় ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বগুড়ার শেরপুরে দুর্ঘটনার শিকার হয় গাড়িটি।
চিকিৎসা ও সহায়তা
দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির অবস্থা গুরুতর, তবে চিকিৎসকরা আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের ফলে শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হচ্ছে। নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল শিশুটির চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন।
এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। পরিবারটির জন্য এটি একটি বড় ধরনের আঘাত, তবে শিশুটির বেঁচে থাকা আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি সরকারের মানবিক দিকটিকে প্রতিফলিত করছে।



