কিডনি রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক: প্রতি সাতজনে একজন আক্রান্ত, সচেতনতাই প্রধান সমাধান
কিডনি রোগে প্রতি সাতজনে একজন আক্রান্ত, সচেতনতা জরুরি

কিডনি রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক: প্রতি সাতজনে একজন আক্রান্ত

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি সাতজনের একজন কিডনির রোগে আক্রান্ত, যা এক দশক আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন প্রতি নয়জনের মাত্র একজন এই রোগে ভুগতেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ক্রমবর্ধমান হার কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও, বায়ুদূষণ, তাপজনিত চাপ, পানিশূন্যতা এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবের মতো পরিবেশগত উপাদানও এই রোগ বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক চিকিৎসায় ৪০ শতাংশ রোগ নিরাময় সম্ভব

কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নিলে ৪০ শতাংশ কিডনি রোগ নিরাময় করা সম্ভব। এ জন্য দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে এই রোগের চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয় কিডনির রোগ স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, কিডনির রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার উপর জোর দেন এবং বলেন, মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে। অধ্যাপক আজাদ একটি গবেষণার উদাহরণ টেনে বলেন, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে খুতবায় সচেতনতা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা ৪৫ শতাংশ কমাতে সাহায্য করে।

নারীদের জন্য বিশেষ উদ্বেগ

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মেয়েরা সবচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত থাকে এবং বেশির ভাগ ডায়ালাইসিস রোগী নারী। তিনি উল্লেখ করেন, তারা প্রায়ই এমন অবস্থায় আসে যখন ডায়ালাইসিস ছাড়া আর উপায় থাকে না, কারণ কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া যায় না এবং পরিবার তাদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে না।

কিডনি রোগের স্তর ও চিকিৎসার ব্যয়

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে প্রায় সাত কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত, এবং এই পর্যায়ে ব্যবস্থা নিলে ৪০ শতাংশ রোগ নিরাময় সম্ভব। তিনি আরও বলেন, এই রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উন্নত বিশ্বে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তিনি সরকারের কাছে ফ্রি-হেলথ বা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা চালুর আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা ও র‍্যালির আয়োজন

আলোচনা সভাটি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’। সভার আগে বেলা সাড়ে ১১টায় কিডনি ফাউন্ডেশন থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়, যা মিরপুর-১–এর সনি সিনেমা হল এলাকা থেকে ঘুরে হার্ট ফাউন্ডেশন হয়ে আবার কিডনি ফাউন্ডেশনে এসে শেষ হয়। আলোচনায় কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনী ফেরদৌস রশীদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।