পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবকের মাইকিং করে মাদক ছাড়ার ঘোষণা, এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঈশ্বরদীতে মাইকিং করে মাদক ছাড়ার ঘোষণা, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবকের মাইকিং করে মাদক ছাড়ার ঘোষণা

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এক যুবক মাইকিং করে মাদক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং এলাকায় মাদক সেবন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরের ইস্তা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

যুবকের মাইকিং ও ঘোষণার বিবরণ

যুবক ফাইম হোসেন (৩০) ইস্তা মসজিদ মোড় থেকে শুরু করে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারটি গ্রামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইক বেঁধে মাইকিং করেন। মাইকিংয়ের সময় তিনি বলেন, 'এই এলাকার সকল মাদকসেবী ভাইদের বলছি, আজকের পর থেকে কেউ ইস্তা এলাকায় মাদক সেবন করতে আসবেন না। আমি নিজেও মাদক সেবন করতাম, তবে আজ থেকে আর করব না। কেউ যদি আমাকে মাদক সেবন করতে দেখেন, তাহলে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন। এলাকায় অন্য কেউ মাদক সেবন করার চেষ্টা করবেন না। কেউ মাদক সেবন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ফাইম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি নিজে মাদক সেবন করতেন এবং গত সোমবার রাতে মাদক সেবনের সময় তাঁর কিছু বন্ধুর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বন্ধুরা তাঁকে অপমান-অপদস্থ করেন, ফলে তিনি মাদক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ৩৫০ টাকা খরচ করে মাইক ভাড়া করে সবাইকে নিজের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, 'আমি সত্যিই নেশা ছাড়তে চাই। নেশা জীবন শেষ করে দেয়, সেটা বুঝতে পারছি। আমি মাদকের বিরুদ্ধে থাকব। কেউ নেশা করলে ব্যবস্থা নেব।'

স্থানীয় বাসিন্দাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার পর এলাকায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি ভালো লেগেছে। তাঁর এই ঘোষণায় অনেকেই অনুপ্রাণিত হবেন বলে আশা করছি।' তবে মনিরুল ইসলাম নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, 'কেউ মাদক ছাড়লে সেটা ভালো। তবে এর জন্য মাইকিং জরুরি ছিল না। এটা কারও ওপর ক্ষোভ থেকে হতে পারে।'

পুলিশের প্রতিক্রিয়া

এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। কেউ মাদক ছাড়লে আমরা সাধুবাদ জানাই। তিনি মাইকিং করে মাদক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি লোক দেখানো না হলেই ভালো।' এই মন্তব্যে পুলিশের উদার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, যদিও তারা বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে পারে।

এই ঘটনা পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় মাদক বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে, তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। যুবক ফাইম হোসেনের এই পদক্ষেপ অন্যান্য মাদকসেবীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও কিছু বাসিন্দা এর পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।