কক্সবাজারে এলপিজি পাম্প বিস্ফোরণ: ৬ জন গুরুতর দগ্ধ, বহু যানবাহন ধ্বংস
কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস পাম্প বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন গুরুতর দগ্ধ রোগী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি ট্যুরিস্ট জিপ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আশেপাশের অন্তত ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও হাসপাতালে ভর্তি
বুধবার ভোররাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার থেকে দগ্ধ ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় এবং তাদেরকে অবিলম্বে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। আহতদের তালিকায় রয়েছেন ৪০ বছর বয়সী আবু তাহের, ২৫ বছর বয়সী সিরাজ, ৩৯ বছর বয়সী আবদুর রহিম, ২২ বছর বয়সী সাকিব, ৪৫ বছর বয়সী মোতাহের এবং আবুল কাশেম।
সিএমসিএইচ পুলিশ আউটপোস্টের ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই ছয়জনকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের সময় ও ক্ষয়ক্ষতি
মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে কলাতলী এলাকার এন আলম এলপিজি ফিলিং স্টেশনে এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ে কাছাকাছি একটি গ্যারেজে, যেখানে ২০ থেকে ২৫টি ট্যুরিস্ট জিপ, স্থানীয়ভাবে "চাঁদের গাড়ি" নামে পরিচিত, সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
এছাড়াও, আশেপাশের অন্তত ১০টি বাড়ি এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিস্ফোরণের কারণ ও প্রাথমিক তদন্ত
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের মতে, স্টেশনের একটি ১৪,০০০ লিটার ধারণক্ষমতার স্টোরেজ ট্যাংক থেকে কিছু সময় ধরে গ্যাস লিক হচ্ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই লিক থেকে জমে থাকা গ্যাসই বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই গ্যাস লিকের বিষয়টি আগে থেকেই সতর্কতা জারি করা প্রয়োজন ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, যা নিরাপত্তা বিধিমালা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
রোগীদের অবস্থা ও চিকিৎসা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. রাশেদ উল করিম জানিয়েছেন, এই ছয়জন রোগীই দগ্ধতার পাশাপাশি শ্বাসনালীতে আঘাত পেয়েছেন। তাদের দেহের ২০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই রোগীদের মধ্যে তিনজন এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের জীবন রক্ষায় জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নিয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করে তাদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও, এলপিজি স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
