ভোলায় টিকা দিতে যাওয়ার পথে মাকে অচেতন করে তিন মাসের শিশুকন্যাকে অপহরণ
ভোলা জেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় তিন মাসের এক শিশুকন্যাকে অপহরণ করা হয়েছে। টিকা দিতে যাওয়ার পথে মাকে অচেতন করে এই অপহরণ ঘটানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টার দিকে ভোলা জেলা সদরের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরপাতা গ্রামের চাকলাদার বাড়ির বাসিন্দা সুমিয়া বেগম তার তিন মাসের শিশুকন্যা জিদনী বেগমকে টিকা দিতে মালেরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। ক্লিনিকের কাছাকাছি পৌঁছালে এক বোরকাপরা নারী তার সামনে দুইশ টাকার একটি নোট ধরে জানতে চান এটি কত টাকার নোট। এরপরই সুমিয়া বেগম অচেতন হয়ে পড়েন।
এই সুযোগে অপহরণকারী চক্রটি সুমিয়া বেগমের কোল থেকে শিশুকন্যাকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে মা সুমিয়া বেগম পাগলের মতো হা-হুতাশ করছেন এবং ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছেন। তিনি মোবাইল ফোনে শিশুর ছবি দেখিয়ে তার সন্তানকে ফিরে পেতে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ভোলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন জানিয়েছেন, অপহৃত শিশুটির খোঁজে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং প্রত্যেক থানাকে এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এর আগেও ওই এলাকায় একই পদ্ধতিতে কয়েক নারীর গলা ও কানের স্বর্ণালংকার ছিনতাই করা হয়েছিল। তারা এই অপহরণ চক্রকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এবং এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবারের অবস্থা
সুমিয়া বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে অপহৃত শিশুকন্যা জিদনী বেগম সর্বকনিষ্ঠ। পরিবারটি এই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং শিশুটির দ্রুত ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ও এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে শিশুটির নিরাপদ ফিরে আসার আশা করছে।
এই ঘটনা শিশু অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
