চাঁদপুরের কচুয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ
চাঁদপুরে গ্যাস বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ, সেহেরি তৈরির সময় দুর্ঘটনা

চাঁদপুরের কচুয়ায় সেহেরি তৈরির সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: তিনজন দগ্ধ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সেহেরির খাবার তৈরির সময় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে একই পরিবারের তিনজন সদস্য গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনাটি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কচুয়া দক্ষিণ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বোয়াল বাড়িতে সংঘটিত হয়।

আহতদের পরিচয় ও অবস্থা

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন খাদিজা আক্তার (৩০), তার স্বামী মো. মাহমুদুল (৩৬) এবং জা শিউলি আক্তার (৪০)। কচুয়া দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাছির হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে দগ্ধ তিনজনই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যেখানে তাদের অবস্থা গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ

দগ্ধ মাহমুদুলের ছোট ভাই হাসান ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তার ভাবি খাদিজা আক্তার সেহেরি তৈরি করার জন্য রান্না ঘরে যান। সেখানে পূর্ব থেকেই গ্যাস সিলিন্ডারে লিকেজ ছিল, যা অজানা রয়ে গিয়েছিল। খাদিজা চুলায় আগুন দিতে গেলে হঠাৎ করেই বিস্ফোরণ ঘটে, যা তাকে তীব্রভাবে দগ্ধ করে।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে মাহমুদুল ও শিউলি আক্তার দ্রুত রান্না ঘরে ছুটে আসেন এবং খাদিজাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় তাদের শরীরেও আগুন লেগে যায়, ফলে তারা উভয়েই আহত হন। হাসান আরও উল্লেখ করেন যে, পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চাঁদপুর থেকে তিনজন দগ্ধ রোগীকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে খাদিজা আক্তারের ৩৫ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে, যা সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা। অন্যদিকে, মাহমুদুলের ৪ শতাংশ এবং শিউলি আক্তারের ২ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।

ডা. শাওন বিন রহমান আরও বলেন, খাদিজা আক্তারকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে, যেখানে মাহমুদুল ও শিউলি আক্তারকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে পূর্ণ সুস্থ হতে কিছু সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা বার্তা

এই ঘটনা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের আগে লিকেজ পরীক্ষা করা অত্যাবশ্যক, এবং কোনো সন্দেহ থাকলে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলা জরুরি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তারা গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।