কক্সবাজারে ইজিবাইক থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় ১২ বছরের শিক্ষার্থী নিহত
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ বছরের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় শিশুটির মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে চকরিয়ার চিরিংগা-বদরখালী সড়কের বাটাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী নওশাদ শরীফ নূর (১২) চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালীর খোন্দকারপাড়া এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ ইউছুফের ছেলে। সে চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, নওশাদ সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় বাড়ির কাছ থেকে ইজিবাইকে ওঠে। দক্ষিণ বাটাখালী এলাকায় ইজিবাইক চলাকালে হঠাৎ করে সে ছিটকে সড়কের উপর পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। ট্রাকটি দ্রুতগতিতে স্থান ত্যাগ করে।
উদ্ধার ও মৃত্যু নিশ্চিত
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন নওশাদকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির পরিবার জানিয়েছেন, নওশাদ শরীফ সকালে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। বাড়ির কাছ থেকে ইজিবাইকে ওঠে সে। দক্ষিণ বাটাখালী এলাকায় টমটম থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয় সে।
পুলিশের বক্তব্য
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, "থানার কাছেই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ট্রাকটি দ্রুতগতিতে স্থান ত্যাগ করায় আটক করা সম্ভব হয়নি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্ঘটনাস্থল থানার খুব কাছেই অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ট্রাকটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ এখনো ট্রাকটির সন্ধান পায়নি এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
বাটাখালী এলাকার বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ইজিবাইকগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই দাবি করেন, এই ধরনের যানবাহনে শিশুদের নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, "নওশাদ খুব মেধাবী ও শান্ত শিশু ছিল। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সকলকে কাঁদিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত ট্রাকটিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।"
এই ঘটনা কক্সবাজার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে এখন চাপ তৈরি হয়েছে যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
