বয়স বাড়ার সাথে প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণ ও সমাধান
বয়সে প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যা: কারণ ও চিকিৎসা

বয়স বাড়ার সাথে প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা হ্রাস: কারণ ও প্রতিকার

বয়সের প্রভাবে অনেক ব্যক্তির প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকে। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে পারে। এই অবস্থার পেছনে বিভিন্ন শারীরিক ও চিকিৎসাগত কারণ দায়ী হতে পারে।

প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যার প্রধান কারণসমূহ

প্রথমত, মূত্রনালি সংকুচিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে এই সমস্যা দেখা দেয়। যখন মূত্রনালি সংকুচিত হওয়া উচিত, তখন তা না হয়ে মূত্রাশয় অত্যধিক প্রস্রাবে পরিপূর্ণ হলে প্রবল চাপে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মূত্র বেরিয়ে আসে।

দ্বিতীয়ত, মূত্রাশয় ও মূত্রনালিকে ঘিরে থাকা পেশিগুলো ঠিকমতো কাজ না করলেও এই সমস্যা হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানের সময়, অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি বা অন্য কোনো কারণে পেটের নিচের পেশিগুলো শিথিল হয়ে যেতে পারে। পুরুষদের বেলায় প্রোস্টেট গ্রন্থির সার্জারির পরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তৃতীয়ত, অনেকের ক্ষেত্রে প্রস্রাব করার পর মূত্রনালি সম্পূর্ণ খালি হয় না, ফলে একটু একটু করে প্রস্রাব ঝরতে থাকে বা প্রস্রাব করে আসার পরই আবার বাথরুমে ছুটতে হয়। মূত্রনালির পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো বাধার কারণে এমন ঘটনা ঘটে।

চতুর্থত, মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, মূত্রনালির ক্যানসার, প্রোস্টেটের সমস্যা, পারকিনসন ডিজিজ, স্ট্রোক ইত্যাদি চিকিৎসা অবস্থার কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণেও এটি দেখা দিতে পারে।

প্রস্রাব ধরে রাখার সমস্যার চিকিৎসা পদ্ধতি

এই সমস্যার চিকিৎসার জন্য প্রথমে কারণ শনাক্ত করা জরুরি। যে কারণে সমস্যাটি দেখা দিয়েছে, সেই কারণের চিকিৎসা করতে হবে। তবে বয়স বাড়ার সাথে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূত্রথলি ও মূত্রনালির পেশির শক্তি ফিরে আসে না। সে ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন ও ফিজিওথেরাপি হতে পারে কার্যকর সমাধান।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম, অভ্যাসের পরিবর্তন ও ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের সাহায্যে এই সমস্যা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ফিজিওথেরাপি ব্যায়ামের ধাপসমূহ

ব্যায়াম ১: চেয়ারে বসে মেরুদণ্ড সোজা রেখে একটু সামনের দিকে ঝুঁকুন। এবার প্রস্রাব ধরে রাখার জন্য দরকারি মাংসপেশিগুলো সংকুচিত করুন। এই অবস্থায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর সংকুচিত মাংসপেশি ছেড়ে দিন। পুরো প্রক্রিয়াটি ১০ থেকে ১৫ বার এবং দিনে ৪ বার করুন। এই ব্যায়ামকে পেলভিক ফ্লোর মাসল এক্সারসাইজ বলা হয়, যা মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।

ব্যায়াম ২: সোজা চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু ভাঁজ করে নিন। এবার ধীরে ধীরে কোমর ওপরের দিকে ওঠান। ৫ সেকেন্ড এভাবে ধরে রাখুন এবং ছাড়ুন। এই ব্যায়ামও দিনে ৪ বেলা এবং প্রতিবার ১০ বার করে করুন।

ব্যায়াম ৩: কেগেল এক্সারসাইজ করার জন্য মাটিতে চিত হয়ে সোজাভাবে শুয়ে পড়ুন। দুটো পা ফাঁক করে রাখুন, হাত দুটি শরীরের দুই পাশে সোজা করে রাখুন। এবার শরীরের নিম্নভাগ (বুকের নিচ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত) ওপরের দিকে উঠিয়ে দিন। এভাবে ১৫ পর্যন্ত গুনুন। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। হয়ে গেলে ধীরে ধীরে শরীর নিচের দিকে নামিয়ে দিন। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ বার করুন।

জীবনযাপনের পরিবর্তন ও উপকারী অভ্যাস

প্রস্রাবের বেগ শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পর প্রস্রাব করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ব্যায়াম প্রস্রাব ধরে রাখতে শেখায়, যাকে ব্লাডার ট্রেনিং বলা হয়। এছাড়া টেনশনমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকলে উপকার পাবেন।

মো. সাইদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক, চিফ কনসালট্যান্ট ও চেয়ারম্যান রি-অ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ অ্যাভিনিউ, সাতরাস্তা, তেজগাঁও, ঢাকা থেকে এই তথ্যগুলো প্রদান করা হয়েছে।