ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর আত্মহত্যা: পারিবারিক বিরোধের জেরে হতাশা
ঢাকা কারাগারে বন্দীর আত্মহত্যা, পারিবারিক বিরোধের জের

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর আত্মহত্যা: পারিবারিক বিরোধের জেরে হতাশা

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শুক্রবার এক বন্দীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রফিকুল ইসলাম (২৮) নামের এই বন্দী গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবন শেষ করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বিকেল পাঁচটার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রফিকুল ইসলাম সেলের বাইরে একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগান। এই সময় কাঁঠালগাছ থেকে তাঁকে নামিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, এই ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের কারণে ঘটেছে। রাতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, রফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ফৌজদারি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন।

পারিবারিক পটভূমি ও হতাশার কারণ

রফিকুল কারাগারে থাকার সময় তাঁর স্ত্রী তাঁর ছোট ভাইকে বিয়ে করেন। এই খবর জানার পর রফিকুল বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার জেরেই রফিকুল গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরে। এর আগেও তিনি একাধিকবার কারাগারে এসেছিলেন।

এই ঘটনাটি কারাগারে বন্দীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহায়তার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত বন্দীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদার করা।