সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যথানাশক ওষুধ—বিশেষ করে অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাবমেডে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, গরমের সময় ‘নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ’ (এনএসএআইডি) বেশি ব্যবহার করলে কিডনি রোগের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। একই সতর্কতা দিয়েছে জন হপকিন্স মেডিসিনও।
কেন বাড়ে কিডনি রোগের ঝুঁকি?
গবেষকদের মতে, কিডনি রোগ এখন অনেকটাই জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত। দেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের হার বাড়ছে, যার পেছনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ভুলভাবে ওষুধ সেবনের প্রবণতা বড় ভূমিকা রাখছে। কিডনি সাধারণত রক্ত পরিশোধনের কাজ করে। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হয়ে যাওয়ায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে। তখন কিডনি রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করে, কিন্তু ব্যথানাশক ওষুধ সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
পানিশূন্যতা ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ওষুধ শরীরে পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে এবং কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ঝুঁকির মধ্যে বেশি রয়েছেন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এছাড়া যাদের শরীরে পানিশূন্যতা বা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ব্যথানাশক ওষুধ বেশি খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
কী করবেন?
গরমকালে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ওষুধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। যাদের আগে থেকে কিডনি সমস্যা আছে, তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।



