হামের সংক্রমণ থামেনি। প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে নতুন রোগী। রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে গতকাল সোমবার দেখা গেছে এমন চিত্র। প্রায় দুই মাস আগে, ৫ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। অনেকেরই আশা ছিল টিকা দেওয়া শুরু হলে হাম কমবে এবং নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। কিন্তু হামের সংক্রমণ ও হামের ভয় এখনো সারা দেশে রয়ে গেছে।
সংক্রমণের বর্তমান চিত্র
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। অধিকাংশ রোগীই শিশু। হামের কারণে জ্বর, ফুসকুড়ি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে তারা হাসপাতালে আসছে। চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা দেওয়ার পরও সংক্রমণ পুরোপুরি রোধ করা যায়নি। এর কারণ হতে পারে টিকার আওতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এবং কিছু এলাকায় টিকা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলা।
টিকা কার্যক্রমের অগ্রগতি
৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টিকা কার্যক্রমের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, টিকা কার্যক্রম জোরদার করতে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোবাইল টিকা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
আশার আলোতবে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সংক্রমণের হার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। হাসপাতালের ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কার্যক্রম সঠিকভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা
হাম প্রতিরোধে শুধু টিকা নয়, জনসচেতনতাও জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়া শিশুদের টিকা দেওয়ার সময়সূচি মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হাম প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি চলছে। তবে সবার সহযোগিতা ছাড়া এই রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং টিকা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।



