মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ‘জামালগোটা’ ফল খেয়ে অন্তত ১৪ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তীব্র পেটব্যথা ও বমির উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার সহড়াবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের পরিচয়
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুরা হলো—মোস্তাকিন (১২), কাফি (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা (৯), রক্তিমা (১১), রিয়াদ (১১), ফেরদৌস (১০), ফুয়াদ (১২) ও মোস্তাকিম (৯)। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে গ্রামের কয়েকজন শিশু একসঙ্গে ফুটবল খেলতে বের হয়। খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কের পাশে একটি গাছে থোকায় থোকায় ফল দেখে কৌতূহলবশত এগুলোর কয়েকটি তারা খেয়ে ফেলে।
ফল খাওয়ার পরপর কোনো উপসর্গ দেখা না দিলেও সন্ধ্যার পর একে একে শিশুদের তীব্র পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। এতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাতেই তাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
অসুস্থ শিশু রিয়াদের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘শিশুরা না বুঝে কৌতূহলবশত এই বুনো ফল খেয়েছে। আমরা ভাবতেও পারিনি এমন বিপদ হতে পারে।’ মোস্তাকিমের মা ফিরোজা খাতুন বলেন, ‘এই ফল যে জামালগোটা এবং এটি এতটা ক্ষতিকর—তা আমাদের জানা ছিল না।’
বন বিভাগের তথ্য
মেহেরপুর জেলা বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালগোটা একটি পরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ হলেও এর বীজ ও ফলে শক্তিশালী বিষাক্ত উপাদান আছে। সাধারণত সড়কের পাশে এ গাছ জন্মায় এবং অনেকেই জমির বেড়া হিসেবেও এটি ব্যবহার করেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য
অসুস্থ শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা উমর ফারুক বলেন, শিশুদের সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো গেছে। বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত।



