দেশব্যাপী এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কীটতত্ত্ববিদরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডেঙ্গু মশা নিধন ব্যতীত কোনো প্রতিকার নেই বলে তারা মত দিয়েছেন। হাসপাতালের যে প্রস্তুতি সরকার নিয়েছে, ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তা মহাসমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো হবে বলে আশঙ্কা কীটতত্ত্ববিদদের। সময় থাকতে মশা নিধনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এখনই কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা ও কারণ
নিপসমের কীটতত্ত্ব বিভাগীয় প্রধান ডা. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ‘এ বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা বেশি। বৃষ্টিপাতও হচ্ছে বেশি। এ কারণে ডেঙ্গু ভয়ংকর রূপ ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর ঘন বৃষ্টিপাত হচ্ছে, রাস্তাঘাটে, বাসাবাড়ির আশপাশে ডাবের খোসা, টায়ারসহ বিভিন্ন প্লাস্টিকের পাত্রে জমাট বাঁধা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার করে। এছাড়া বাসার ভেতরে ফ্রিজের কিংবা কোনো পাত্রে জমাট বাঁধা পানিও এডিস মশার প্রজননস্থল। বৃষ্টি হলে এডিস মশার প্রজনন আরও বেড়ে যায়।
মশা নিধন ও সচেতনতার গুরুত্ব
মশা নিধন, জমাট বাঁধা পানি অপসারণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এডিস মশা থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কাজ বাসিন্দারা নিজেরাই করতে পারেন। মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি এডিস মশা প্রজনন রোধে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ডা. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ‘ডেঙ্গু হওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত। এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হবে—এটি প্রায় সবার জানা। কিন্তু চিহ্নিত শত্রুকে নিধন করাও সহজ। সময় থাকতে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এডিস মশার বংশ ধ্বংস সম্ভব। সময় শেষ হয়ে গেলে মশক নিধন কার্যক্রমে সফলতা আসবে না।’
ডেঙ্গু চিকিৎসা ও প্রস্তুতি
গতকাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ডেঙ্গু চিকিৎসা সেবার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সতর্কবাণী—ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেড়ে চলছে। আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
লক্ষণ ও করণীয়
দেশের সুনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন করতে পারেন। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, সমস্ত শরীর ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা, পায়ে র্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ।’ এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও সেবন করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ বলে তিনি মত দেন। নিজেরা ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ কিনে খাবেন না। এক্ষেত্রে অঙ্গহানি, শারীরিক জটিলতা কিংবা মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি। প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা বা সমস্ত শরীর ব্যথা হলে শুধু প্যারাসিটামল খাবেন বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। শিশুদের জন্য ঝুঁকি বেশি। ডাবের পানি, শরবতসহ বেশি বেশি পানি পান করবেন। শিশুদের ফুলপ্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট, পায়ে মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।



