বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুর সংখ্যা দেশের মোট মৃত্যুর ১৫ শতাংশেরও বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমতুল্য।
বায়ুদূষণের উৎস ও প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানা। ঢাকা শহরের বায়ু বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, 'বায়ুদূষণ শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।'
অর্থনৈতিক ক্ষতি
বায়ুদূষণের কারণে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়ছে, শ্রম উৎপাদনশীলতা কমছে এবং পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছিল প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মদিবস হারানোর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিকার ও সুপারিশ
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বায়ুদূষণ কমাতে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইটভাটার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, যানবাহনের নির্গমন কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যবস্থা নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব।



