স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা: বিগত সরকারের ভুলে 'মেরামতের অযোগ্য' স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
বিগত সরকারের ভুলে 'মেরামতের অযোগ্য' স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী

বিগত সরকারের ভুলে 'মেরামতের অযোগ্য' স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা

বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভঙ্গুর ও 'মেরামতের অযোগ্য' অবস্থায় পৌঁছেছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে 'সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জসমূহ' শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

হাতুড়ির টোকায় সম্ভব নয় পুনর্গঠন

প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো সংস্কার বা 'হাতুড়ির টোকা' দিয়ে এই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থাটি এমন মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মেরামতের গণ্ডি বহু আগেই অতিক্রম করেছে। বর্তমান সরকার এই চরম চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করেই 'সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ' গঠনের কাজ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর উদাহরণ

সাম্প্রতিক হামের ভয়াবহ ঘটনাগুলো উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যেত, তবে আজ অসংখ্য শিশুকে ভেন্টিলেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না। দেশের স্বাস্থ্য খাতের করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বলতে কার্যত কিছুই অবশিষ্ট নেই। টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন জনস্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে আমি বুঝি, সেখানে চিকিৎসকদের করার খুব কমই থাকে। এটি মূলত আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ব্যর্থতা।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিগত সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার দায়

ভুল নীতি ও পরিকল্পনার কারণে শত শত শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পলিসি বা নীতিগত ব্যর্থতার দায়ভার এখনও এই স্বাস্থ্য খাতকে বইতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে মাঠ পর্যায়ে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন, যার ফলে দেশের হাসপাতালগুলোর সেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।

ভয়াবহতা ও সুযোগের দ্বৈত অবস্থান

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যেমন অত্যন্ত ভয়াবহ, তেমনি এটি একটি বিশাল সুযোগও বটে। এই সুযোগের পেছনে একটি গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি রয়েছে। যেকোনো গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি করে এবং বর্তমান সরকার সেই আকাশচুম্বী প্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অতীতের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে বর্তমানে সব মহলের চিন্তাধারা বা 'মাইন্ডসেট' এখন একই সমান্তরালে আসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিশেষভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করছেন। তিনি আরও বলেন, যদি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা যায় এবং তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়, তবে অসংক্রামক ব্যাধি বা 'নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ'-এর প্রকোপ ও চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।

দীর্ঘ প্রস্তুতি ও টেকসই পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ড. এম এ মুহিত বলেন, 'আমার মনে হয় না অতীতে কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দীর্ঘ সময় আগে থেকে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে মাসের পর মাস আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বর্তমান সরকার সেই প্রস্তুতি বা 'হোমওয়ার্ক' সেরেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যাতে একটি টেকসই ও স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।'

সেমিনারে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন:

  • বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. জিয়া হায়দার
  • বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর
  • স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নাজমুল হাসান
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফোয়ারা তাসনিম ফ্লোরা
  • বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাইফুল ইসলাম
  • আইসিডিডিআরবি'র আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী শরফুল ইসলাম খান ববি
  • ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম প্রমুখ