হামের প্রকোপে স্কুল বন্ধ রাখার রিট শুনবেন হাইকোর্ট, আগামীকাল শুনানি নির্ধারিত
হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত দেশের সকল স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।
রিটের পটভূমি ও আবেদনের মূল বিষয়
গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয়, যাতে হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সম্প্রতি দেশে হামের কারণে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করা হয়, যা শিশু স্বাস্থ্য ও জনসুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইনি নোটিশ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
রিট দায়েরের আগে, গতকাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য হামের টিকার ব্যবস্থা করতে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এই নোটিশ পাঠান, যা স্বাস্থ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রেরিত হয়।
লিগ্যাল নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছুদিন যাবৎ হামের টিকার অভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করছে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অথচ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। নোটিশে পত্রিকায় প্রকাশিত হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু এবং শতাধিক শিশুর উপসর্গ নিয়ে ক্ষতির প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপের হুমকি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া নোটিশে সতর্ক করে দেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে। এই আইনি চাপের পরিপ্রেক্ষিতে, হাইকোর্টের শুনানি শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সরকারি দায়বদ্ধতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলা জনস্বাস্থ্য নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং টিকা সরবরাহ ও জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
হামের প্রকোপ বর্তমানে দেশের একটি বড় স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে, যেখানে শিশুদের সুরক্ষা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। হাইকোর্টের এই শুনানি শিশু মৃত্যু রোধ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি মাইলফলক হতে পারে, যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।



