একই তাপমাত্রায় কারও কাছে গরম স্বাভাবিক মনে হলেও, অনেকেই অতিরিক্ত গরমে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, ঘাম, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আবহাওয়া নয়, শরীরের ভেতরের কিছু স্বাস্থ্যগত কারণও গরম সহ্য করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। শরীর যখন স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন গরম বেশি অনুভূত হয়। এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গরম বেশি লাগার প্রধান স্বাস্থ্য কারণসমূহ
বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা গরম সহনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। এখানে সেগুলোর একটি তালিকা ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
থাইরয়েডের সমস্যা
বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজমে বিপাক হার বেড়ে যায়। এতে শরীরে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়, ফলে গরম বেশি লাগে এবং ঘামের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।
ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্নায়ু ও ঘামগ্রন্থির কার্যকারিতা হ্রাস পায়। ফলে শরীর সঠিকভাবে ঘাম ঝরাতে পারে না এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটে।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ
এই অবস্থায় রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক না থাকায় শরীরের তাপ ছড়িয়ে পড়তে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে গরমে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বাড়ে।
অতিরিক্ত ওজন
শরীরে জমে থাকা চর্বি তাপ ধরে রাখে, ফলে শরীর সহজে ঠান্ডা হতে পারে না এবং দ্রুত ক্লান্তি দেখা দেয়।
রক্তস্বল্পতা
অ্যানিমিয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও গরমে অস্বস্তি বৃদ্ধি পায়।
হরমোনজনিত পরিবর্তন
নারীদের মেনোপজের সময় ‘হট ফ্ল্যাশ’ বা হঠাৎ গরম লাগা সাধারণ ঘটনা। এছাড়া গর্ভাবস্থা বা মাসিক চক্রের সময় হরমোনের ওঠানামায় তাপমাত্রা সহনশীলতা কমে যেতে পারে।
পানিশূন্যতা
শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে ঘাম কম হয়, যা শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
কিছু ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধ শরীর থেকে পানি কমিয়ে দেয় বা তাপ সহনশীলতা হ্রাস করে, ফলে গরমে ঝুঁকি বাড়ে।
গরমে সতর্কতা ও প্রতিকার
গরমে এসব সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা নিম্নলিখিত পরামর্শ দিচ্ছেন:
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- রোদ এড়িয়ে চলুন
- ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন
- অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার চেষ্টা করুন
- শীতল পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করুন
তবে গরমে অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ঘাম হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তীব্র গরমেও অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত থাকা সম্ভব।



