দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের টিকাদান ঘাটতিকে দায়ী করেছেন
দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী বছরে নিম্ন টিকাদান কভারেজকে দায়ী করেছেন। তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনের টিকাদান প্রচেষ্টায় ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন, যা বর্তমান সংকটের পেছনে একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ: অতিরিক্ত টিকা সরবরাহ ও বিশেষ অভিযান
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত অতিরিক্ত হাম টিকার সরবরাহ ব্যবস্থা করেছে এবং একটি জাতীয় বিশেষ টিকাদান অভিযান চালু করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল টিকাদানের হার বৃদ্ধি করে হামের বিস্তার রোধ করা। তবে, চলমান এই অভিযানে টিকাদানের যোগ্যতা মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
টিকাদানের সময় সতর্কতা: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শনিবার ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, যেসব শিশু সর্দি, কাশি বা জ্বরে ভুগছে তাদের টিকা দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম ডোজ দেওয়ার পর চার সপ্তাহ না কাটলে হামের টিকাও স্থগিত রাখা উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যেসব শিশু স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থায় নেই তাদের টিকা প্রদান করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তারা সুপারিশ করেছেন যে, সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর এবং নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
টিকাদানের গুরুত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
চিকিৎসকরা জোর দিয়েছেন যে, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে টিকাদান অপরিহার্য। তবে, এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ যে, টিকা গ্রহণকারীরা চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত হন এবং টিকাদান নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এটি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এই পরিস্থিতিতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের টিকাদানের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।



