গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু
সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ নিহত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শীর্ষে

গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গত মাসে দেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ জন শিশু রয়েছেন, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুহার

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রবণতা বৃদ্ধি

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হয়েছিলেন। মার্চ মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ১৬ জনে। এই হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা নির্দেশ করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেদনের উৎস ও পদ্ধতি

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

নৌ ও রেল দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চ মাসে ১৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি, ৪৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন, যা পরিবহন নিরাপত্তার ব্যাপক ঘাটতি তুলে ধরছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ও স্থান

সংস্থাটি মনে করে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনা

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন, যা আঞ্চলিক বৈষম্য নির্দেশ করে।

যানবাহনের ভূমিকা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-হ্যান্ড ট্রলি-ট্যুরিস্ট জিপ ২৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো জিপ ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, বাইসাইকেল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অজ্ঞাতনামা যানবাহন ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

দুর্ঘটনার মূল কারণসমূহ

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোসহ ১১টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

সুপারিশমালা

প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি, বেতন-কর্মঘণ্টা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন।