পাবনায় হামের প্রকোপে শিশু মৃত্যু: তাহসিন খানের করুণ পরিণতি
পাবনা জেলায় হামের প্রকোপে আট মাস বয়সি তাহসিন খান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পাবনায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট তিন শিশুর প্রাণহানি ঘটলো, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশু তাহসিনের মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ
মৃত তাহসিন খান পাবনা সদর উপজেলার দেলোয়ার হোসেন খানের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পরদিন তাহসিন হামে আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাম আক্রান্ত শিশুকে ভর্তিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে ফিরিয়ে এনে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরবর্তীতে তাকে আবারও এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু ঘটে। স্বজনরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।
পাবনায় হামের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, পাবনায় সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন নতুন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা স্বাস্থ্য সেবার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
সূত্রমতে, বছরের শুরু থেকেই পাবনায় হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রথম তিন মাসেই জেলায় ২১১ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এ পর্যন্ত মোট ২৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাহসিন খানের মৃত্যুর মাধ্যমে মোট শিশু মৃত্যুর সংখ্যা তিনে পৌঁছালো।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ
হামের এই ক্রমবর্ধমান প্রকোপ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীদের ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সম্পদ ও কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে সমন্বয় সাধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত প্রচেষ্টা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।



