দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, মৃত্যুও বাড়ছে

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা এই রোগের তীব্রতা ও বিস্তারকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

মৃত্যুর বিভাগীয় বণ্টন

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনাগুলোতে রাজশাহী বিভাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে চারজন ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ঢাকায় দু’জন এবং সিলেটে একজন মারা গেছেন, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই রোগের বিস্তারকে তুলে ধরে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের দৈনিক বুলেটিনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে, যা বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

রোগীর সংখ্যা ও ভর্তির হার

বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৮৭ জনে পৌঁছেছে, যা একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকায় শনাক্ত হয়েছে, যেখানে ৫০৪ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে, সন্দেহজনক হাম রোগীর ভর্তির সংখ্যা ৬৭৪ জন, যার মধ্যে ঢাকায় ২৬১ জন ভর্তি হয়েছেন, যা রাজধানীতে এই রোগের চাপকে স্পষ্ট করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪২ জন, যা রোগের নিশ্চিত কেসগুলোর গুরুত্বকে তুলে ধরে। তবে কিছুটা আশার খবর হলো, হাসপাতাল থেকে ৫৬০ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন, যা চিকিৎসা সেবার কার্যকারিতার একটি ইতিবাচক দিক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামগ্রিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১৪৩ জন এবং নিশ্চিত হামে ২৩ জন মারা গেছেন। এই সংখ্যাগুলো হামের প্রাদুর্ভাবের তীব্রতা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে হামের বিস্তার রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।