লাকসামে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে ১১ জন আহত, শিশু ও বৃদ্ধা আক্রান্ত
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ১১ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জন শিশু এবং একজন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মহিলা রয়েছেন, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সকাল ৫টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনাগুলো ঘটে। লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম বিকাল ৫টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আহতরা হলেন: সিজরাতুল মোনতাহার (৬), আনিকা (৭), ওমরা (৭), আয়ন (৬), নুসরাত (৫), রাইসা (১০), আয়া (১৬ মাস), মিম (১২), আরিফ (২), মমিনা খাতুন (৭০) এবং জান্নাতুল ফেরদৌস (৬)।
আহতদের চিকিৎসা ও এলাকার পরিস্থিতি
সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গেছেন, আবার কেউ গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কান্দিরপাড়, হামিরাবাগ, সাতবাড়ীয়া, মুদাফরগঞ্জ বাজার, এবং পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিভিন্ন রঙের পাগলা কুকুর বেপরোয়া আচরণ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা পরিষদের সামনে দোকানদার মুখছেদ আলী বলেন, "বুধবার বিকালে আমার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় কুকুর কামড় দেয়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এই এলাকায় ১২-১৫টি কুকুর দল বেঁধে ঘোরাফেরা করে, যা মহিলা ও শিশুদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
সাংবাদিক কামাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, "রাস্তাঘাটে অসংখ্য কুকুর দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়, এতে আতঙ্কে পথ চলতে হয়। অনেক রোগাক্রান্ত কুকুর খাদ্যদ্রব্যে মুখ দেয়, যা রোগের কারণ হতে পারে।"
চিকিৎসক মোজ্জাকের হোসেন পরামর্শ দেন, "বেওয়ারিশ কুকুর বিপজ্জনক হলেও সঠিক ব্যবস্থা নিলে ঝুঁকি কমানো যায়। জলাতঙ্ক রোধে কুকুরকে টিকা দেওয়া উচিত।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কুকুর নিধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিধন কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। আমরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পেইন চালাবো।"
এই ঘটনা লাকসামে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



