যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান: বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগেই মাদক প্রতিরোধ সম্ভব
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জোর দিয়ে বলেছেন, কার্যকর মাদক প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক, টেকসই এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, "কৌতূহল এবং ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কৈশোর ও যৌবনকালে সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই পর্যায়ে তরুণদের সঠিক তথ্য, জীবন দক্ষতা এবং ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে সজ্জিত করা গুরুত্বপূর্ণ।"
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে সেমিনারের আয়োজন
প্রতিমন্ত্রী বুধবার ঢাকার ধানমন্ডিতে "যুব কণ্ঠে প্রমাণভিত্তিক প্রতিরোধ: প্রচার নয়, প্রতিরোধ গড়ুন" শীর্ষক এক সেমিনারে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এই বক্তব্য রাখেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবস্ট্যান্স ইউজ প্রফেশনালস (আইএসএসইউপি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা আহসানিয়া মিশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইএসএসইউপি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান ও সাইকোথেরাপি এবং সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ড. এম এ মোহিত কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- ঢাকা আহসানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান
- নarcotics নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহজাবীন হক
এছাড়াও আইএসএসইউপি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সদস্য সচিব ও ঢাকা আহসানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বক্তব্য রাখেন।
মাদক প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক কৌশলের ওপর জোর
সেমিনারের বক্তারা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি থেকে সরে এসে বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক কৌশলের দিকে ঝুঁকতে আহ্বান জানান। তারা জোর দিয়ে বলেন, মাদকাসক্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি বড় হুমকি।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মাদক নির্ভরতা মোকাবেলায় শুধুমাত্র চিকিৎসাই নয়, প্রয়োজন সহজলভ্য ও যুববান্ধব মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, পুনর্বাসন এবং পুনর্বাসন। মাদকের প্রাপ্যতা কমানো এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক, যুবসমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিজ্ঞান ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
যুব ঘোষণাপত্র উপস্থাপন
সেমিনারে ঢাকা আহসানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলী সঞ্চালনা করেন। অন্যদিকে আহসানিয়া মিশন যুব ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিইং-এর সমন্বয়ক মারজানা মুন্তাহা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় যুব মাদক ব্যবহারের প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- পারিবারিক অস্থিরতা
- মানসিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ
- নেতিবাচক সহপাঠীদের প্রভাব
- কলঙ্ক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
- আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা
প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হিসেবে পরিবারকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জীবন দক্ষতা–ভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান, যাতে তরুণদের মধ্যে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা গড়ে তোলা যায়। পাশাপাশি মাদক নীতি পরিকল্পনায় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে একটি যুব ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ উদ্যোগের জন্য সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



