রংপুরে মশার আতঙ্ক: দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা
মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে বসে আছেন নৈশপ্রহরী তাজুল ইসলাম। রংপুর নগরের সাতগাড়া মিস্ত্রীপাড়া এলাকার এই বাসিন্দা জানান, মশার কামড়ে জ্বরে জ্বরে তাঁর শরীর আর ভালো হয় না। এই যন্ত্রণা শুধু তাঁর একার নয়, রংপুর সিটির ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ বাসিন্দার কমবেশি একই অবস্থা।
মশার প্রজনন স্থান: খাল-নালা ও জলাবদ্ধতা
নগরবাসীর অভিযোগ, ২০৫ বর্গকিলোমিটারের রংপুর সিটিতে খাল-নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করা ও নিয়মিত ওষুধ না ছিটানোয় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শ্যামাসুন্দরী খাল ও কেডি খালের জমাটবাঁধা পানি মশার প্রজনন স্থান হয়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, কচুরিপানা জমে থাকা ও ময়লা ফেলার কারণে এই সমস্যা প্রকট।
কিউলেক্স মশার প্রাধান্য ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার দেখা যায়—কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। রংপুর সিটিতে কিউলেক্স মশার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়, যা ফাইলেরিয়া বা গোদরোগের বাহক। কীটতত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মাহাবুবা ফেরদৌসীর মতে, গত মার্চের জরিপে ৬০ শতাংশ কিউলেক্স মশা পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রাক্–মৌসুমি বৃষ্টির কারণে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে, যা ডেঙ্গুর কারণ হতে পারে।
সিটি করপোরেশনের ক্রাশ প্রোগ্রাম ও সীমাবদ্ধতা
গত ১৭ মার্চ থেকে মশা নিধনে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নেওয়ার কথা বলছে রংপুর সিটি করপোরেশন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৬ জন কর্মী বিভিন্ন ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করছেন। তবে, নতুন সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান জানান, প্রচুর অভিযোগ পাওয়ায় জনবল ও কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের আহ্বান
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান মোখলেছুর রহমানের মতে, মশা মারার চেয়ে মশার জন্মস্থান ধ্বংস করা বেশি সাশ্রয়ী ও স্থায়ী সমাধান। তিনি সমন্বিত মশা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত এই কাজ করে যেতে হবে বলে তিনি মত দেন।
মশার অত্যাচারে বাসাবাড়িতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে নগরের কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়ার মতো এলাকার বাসিন্দাদের জন্য। দিন-দুপুরেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ মানুষজন এখন স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশায় রয়েছেন।



