স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা ও তিন সিটিতে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ৩ মে থেকে এই টিকা কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হবে। তিনি বলেন, ‘বিরতিহীনভাবে এই টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাব। জনস্বাস্থ্য সঠিক রাখার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখার জন্য এই কার্যক্রম চলবে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভায় ঘোষণা
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভায় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন।
হামের টিকা পরিস্থিতি ও সাফল্য
সভা শেষে হাম পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর বিগত দুটি সরকারের টিকা দেওয়ার ব্যর্থতা বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে লক্ষ্য ছিল ৭৬ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া, সেখানে ৭৩ হাজার শিশু টিকা নিয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দিনে টিকা দানে ৯৬ শতাংশ সফলতা অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টিকা ইউনিসেফ এবং গ্যাবির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে, অন্য কোনো ফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনা হয়নি।
চিকিৎসক সংকট ও স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি
হামের জন্য নির্ধারিত মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে সচেতন আছি, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে অ্যাটাচমেন্ট বৃদ্ধি করে ডাক্তার দিয়ে যাব, টেকনিশিয়ান, নার্স বাড়ানো হবে। এই মহামারিকে মোকাবিলা করার জন্য শুধু ডিএনসিসি হাসপাতাল নয়, প্রত্যেক জায়গায় আইসোলেশন বেড, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বড় বড় হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিসরে ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইনটেনসিভ কেয়ার যেখানে আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বন্ধের অঙ্গীকার
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং এই খাতের সব পর্যায়ে দুর্নীতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বন্ধে আমরা এখনো সফল হতে পারিনি, তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি আগামী অর্থবছর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ায় শতভাগ দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।’ তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, সিঙ্গেল ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে যা সংরক্ষণ করা কঠিন, অথচ মাল্টি-ডোজ হওয়া উচিত ছিল। টেন্ডারে এমনভাবে শর্ত দেওয়া হয় যাতে নির্দিষ্ট কোম্পানি সুবিধা পায়, যা সরাসরি দুর্নীতি।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য তিন গোষ্ঠীর সমন্বয়
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রেক্ষাপটে সরকার, চিকিৎসক-নার্স এবং ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—এই তিনটি গোষ্ঠীকে যদি একটি সরল রেখায় আনতে না পারা যায়, তাহলে স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘এই তিন গোষ্ঠী যদি সততা ও স্বাস্থ্যসেবার নৈতিকতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ না করে, তাহলে যত উন্নত ওষুধ, এআই বা প্রযুক্তিই আবিষ্কার হোক—স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উন্নতি হবে না।’ তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের কিছু কোম্পানির টেস্টিং রিপোর্টে ইনগ্রিডিয়েন্টের ৭০% কম থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রশাসন সেই ওষুধ বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে, আবার ভালো মানের ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিকে আটকে রাখা হচ্ছে, যা দুর্নীতির লক্ষণ।



