পাহাড়ে পানির সংকট: নারী-শিশুদের কষ্টের যাত্রা
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সংকট চলছে। এনজিওসহ বিভিন্ন সংস্থার বসানো অধিকাংশ কল পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ পানির যোগানকে ব্যাহত করছে। এই সংকটের মূল ভুক্তভোগী হচ্ছেন নারী ও শিশুরা, যাদেরকে দৈনিক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
অকেজো কল ও শুকিয়ে যাওয়া ঝিরি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর ধরে বসানো কলগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একইসাথে, প্রাকৃতিক ঝিরিগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে, যা পানির উৎসকে আরও সীমিত করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মারমা ও অন্যান্য পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষরা বিকল্প পদ্ধতিতে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ
পানি সংগ্রহের দায়িত্ব প্রধানত নারী ও কিশোরীদের উপর বর্তায়। তারা মাথায় কলসি চেপে সুপেয় পানি আনছেন, যা একটি কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজ। এক মারমা নারী বলেন, "প্রতিদিন সকালে উঠেই পানি আনতে যেতে হয়, না হলে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।" শিশুরাও মায়ের সঙ্গে হাত ধরে খাবারের পানি সংগ্রহ করতে যাচ্ছে, যা তাদের শিক্ষা ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ
পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এক পাহাড়ি কিশোরী জমে থাকা অল্প পানিতে বাসন ধুয়ে আবার এক কলসি পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। কূপ থেকে পানি নিয়ে বোতলে ভরছেন পাহাড়ি নারীরা। এমনকি, গর্ত খুঁড়ে রাখা খাবারের পানিতে যেন ময়লা না পড়ে, সে জন্য মশারি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তাদের সৃজনশীলতা ও সংগ্রামের পরিচয় দেয়।
সমাধানের দাবি
স্থানীয়রা দাবি করছেন, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পানির সংকট সমাধান করতে হবে। কলগুলো মেরামত ও নতুন উৎস তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এক কাঠুরে কাজ থেকে ফিরে তৃষ্ণা মেটানোর সময় বলেন, "পানির জন্য এত কষ্ট করতে হয়, এটি আমাদের মৌলিক অধিকার।" দুই হাতে কলসি নিয়ে পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া এক যুবকও একই মত প্রকাশ করেন।
এই সংকট পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।



