নারায়ণগঞ্জে একদিনের নবজাতককে নদীতে ফেলার চেষ্টা, উদ্ধার করে পরিবারে ফেরত
নারায়ণগঞ্জে নবজাতক উদ্ধার, দারিদ্র্যের কাহিনী

নারায়ণগঞ্জে একদিনের নবজাতককে নদীতে ফেলার চেষ্টা, উদ্ধার করে পরিবারে ফেরত

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় একদিন বয়সী নবজাতককে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দ্রুত সাড়া ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শিশুটি জীবিত উদ্ধার হয়েছে। পরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে মুচলেকা নিয়ে নবজাতকটিকে তার পরিবারের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে বন্দর উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকের মা রাহেলা বেগম শিশুটিকে একটি প্লাস্টিক ব্যাগে মুড়িয়ে নদীতে ফেলার সময় আশপাশের লোকজন দেখে ফেলেন। ব্যাগের ভেতরে নড়াচড়া লক্ষ্য করে তারা তা তুলে নেন এবং ভেতরে একদিনের নবজাতক কন্যাশিশুকে পান।

স্থানীয়রা অবিলম্বে বন্দর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুকে উদ্ধার করে এবং মা রাহেলা বেগমকে থানায় নিয়ে আসে। নবজাতককে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়, যেখানে তাকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের পটভূমি

নবজাতকের বাবা আবদুল মালেক ও মা রাহেলা বেগম রংপুর জেলার পীরগাছা থানার পঞ্চনন গ্রামের বাসিন্দা, তবে বর্তমানে তারা বন্দর উপজেলায় বসবাস করছেন। আবদুল মালেক একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার ফলে তিনি লাঠি নিয়ে চলাফেরা করেন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এই দম্পতির আগে থেকেই তিন সন্তান রয়েছে: একটি ১০ বছর বয়সী ছেলে, একটি ৬ বছর বয়সী মেয়ে এবং একটি আড়াই বছর বয়সী ছেলে। নতুন নবজাতকের আগমনে সংসারের খরচ বাড়ার আশঙ্কায় তারা চাপ অনুভব করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মা-বাবার বক্তব্য

আবদুল মালেক জানান, তার স্ত্রী রাহেলা বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ এবং গর্ভাবস্থা সম্পর্কে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। তিনি বলেন, "আমার স্ত্রী সংসারের খরচ বাড়বে ভেবে বাচ্চা না নেওয়ার জন্য বলেছিল, কিন্তু গর্ভাবস্থা গোপন রাখেন। প্রসবের পর আমাকে না জানিয়েই ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা এখন নিজেরাই বাচ্চাটিকে লালনপালন করতে চাই।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের দুর্ঘটনার পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আর্থিক সংকট তীব্র হয়েছে, তবে তিনি পরিবার চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

পুলিশ ও সমাজসেবার ভূমিকা

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, "অভাবের তাড়নায় ও মানসিক অসুস্থতার কারণে মা নবজাতককে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা শিশুকে উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় মুচলেকা নিয়ে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

বন্দর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল কবির বলেন, "পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা সতর্কতামূলক মুচলেকা দিয়েছি। শিশুর বাবা আবেদন করলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।"

সামাজিক প্রেক্ষাপট

এই ঘটনা দারিদ্র্য, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জালের গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন পরিবারগুলোর জন্য আরও সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন, যাতে শিশু ও মায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের দ্রুত সাড়া ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এই নবজাতকের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।